হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামী সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ইরাকে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হুসাইনি "উম্মাহর শহীদ নেতা"-র পক্ষ থেকে ওই তেলআফারের কিশোরকে উপহার প্রদান করে সম্মানিত করেন। ঐতিহাসিক শেষযাত্রার সময় শহীদ নেতার প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার আবেগঘন দৃশ্য বিশ্বজুড়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ নেতার অনুরাগীদের মধ্যে একটি প্রচলিত রীতি হলো-প্রয় নেতার বিচ্ছেদের বেদনায় এবং বরকতের আশায় তাঁরা কোনো চাদর, স্কার্ফ বা কেফিয়া শহীদদের মরদেহের ওপর স্পর্শ করিয়ে নেন। ইরাকের বিভিন্ন গোত্র, পরিবার, ধর্মীয় ও সরকারি ব্যক্তিত্ব বিদায়, জানাজা ও স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনুগত্য ও শ্রদ্ধার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
এই কিশোরটি যখন শহীদ নেতার মরদেহবাহী গাড়িটি যেতে দেখে এবং তার হাতে স্পর্শ করানোর মতো কোনো কাপড় না থাকায়, তখন নিজের গায়ের শার্ট খুলে গাড়ির দিকে ছুড়ে দেয়। পরে সে মরদেহবাহী গাড়িটির দিকে দৌড়ে যায়। তার নিজের ভাষায়, সে চেয়েছিল কাছ থেকে শহীদ নেতার বরকত লাভ করতে।
এই স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনার ভিডিও ও ছবি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, এমনকি অ-আরব সংবাদমাধ্যমেও তা প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনা ইরানের সঙ্গে অঞ্চলের জনগণের গভীর ও ভৌগোলিক সীমা অতিক্রমকারী সম্পর্ক এবং ইরাকের জনগণের মধ্যে শহীদ নেতার উচ্চ মর্যাদার আরেকটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সম্মাননা কেবল একজন কিশোরকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য ছিল না। এর মাধ্যমে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেই দেখিয়েছেন যে, তাঁর শহীদ পিতার মতো তিনিও কিশোরদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও আস্থা রাখেন।
সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বসরার নারীদের ব্যক্তিগত অলংকার দান, বাগদাদের এক ইরাকি শিশুর নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ-তার সাইকেল-ইরানের জনগণের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে উপহার দেওয়া, নাজাফে শহীদ নেতার জানাজাবাহী বিমান পৌঁছানোর সময় ইরাকি সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ জেনারেলের অশ্রুসিক্ত হওয়া, একজন অভিজ্ঞ আরব সেনাসদস্যের সামরিক সালাম জানানো এবং সর্বশেষ শহীদ নেতার মরদেহের দিকে এক ইরাকি কিশোরের দৌড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো-এসবই বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ে ইরান ও ইরাকের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আবেগময় বন্ধনের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আপনার কমেন্ট